-হ্যালো,ভাইয়া?
-হুম,বল।
-তুমি এখন কোথায়?
-আমি তো বাসে।
-আবার মিথ্যে কথা বলছো?
-মিথ্যা নয় সত্যি আমি বাসে।কাল সকালেই বাসায় আসছি।
-(খুশি হয়ে) আমার লাল জামাটা তো এনেছিস? এবার যদি না আনিস...তোর সাথে কথাই বলবো না।
-হ্যাঁ রে,পাগলী। তোর জন্য লাল জামা। মায়ের জন্য কাপড় কিনেছি।
-সত্যি?
-হুম,সত্যি।
-অপি আপুর জন্য কি আনলি?
-ওর জন্য কেন আনবো? ও আমার কে?
-ও মা,বউয়ের জন্য কিছু আনবা না?
-অনেক ফাজিল হয়েছিস,নাহ? এবার আসি বাড়ীতে তোর ফাজলামো ছাড়াবো।
-এবার তুমি বাড়ীতে আসো। ভাবীকেও আমাদের বাড়ী নিয়ে আসবো। হি হি হি
-ওকে, এখন রাখি।
-আচ্ছা,তাড়াতাড়ি এসো।
ফোনটা রেখে সোহান মনে মনে হাসছে।আর ভাবতেছে,“পাগলীটার, পাগলামো এখনও গেলো না।”
সোহানের বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব ওর কাঁধে এসে পড়ে।চাকরীর খুঁজে ব্যস্ত শহর,ঢাকায় পা রাখে।অনেক কষ্ট করে একটা প্রাইভেট অফিসে কেরানীর পদে চাকরী পায়।সংসার চালানো থেকে শুরু করে,তিতলীর(ওর বোন) পড়াশুনার খরচ ওকে বহন করতে হয়।আগের বার ব্যস্ততার কারণে ঈদে বাড়ী যাওয়া হয় নি।কিন্তু এবারের ঈদ ও গ্রামেই করবে।
তিতলী আগে থেকেই বলেছিলো যে, ওকে একটা লাল জামা কিনে দিতে হবে।তাই তো বোনের আবদার মেটাতে, অনেক খুঁজে বোনের লাল জামা নিয়ে যাচ্ছে।তিতলী ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ে।খুবই চঞ্চল আর অভিমানী মেয়ে।আগেরবার ওকে লাল জামা না দেয়ায় অনেকদিন সোহানের সাথে কথাই বলেনি।রাগ করে,গাল ফুলিয়ে বসেছিলো।সোহান ওকে খুবই স্নেহ করে। আর তিতলীও তার ভাইয়াকে অনেক অনেক ভালোবাসে।
অপির কথা মনে পড়ে সোহানের।ওদের পাশের বাড়ীর একটা মেয়ে।মেয়েটা খুবই ভদ্র টাইপের।সারাক্ষণ চোখে একটা চশমা থাকে।অনেক মায়াবী চেহারা।সোহানের পরিবারের সবাই ওকে ‘সোহানের বউ’ বলে ডাকে।যখন কেউ অপির সামনে সোহানের কথা বলে,ওর মুখ লজ্জা লাল হয়ে উঠে।সোহানও লাজুক টাইপের ছেলে।অপির সামনে আসলেই কোন কথা বলতে পারে না।দু’জন দুজনকে খুবই পছন্দ করে,কিন্তু বলতে পারে না।সোহান মনে মনে ভাবে,অপি এখন দেখতে কেমন হবে?আগের ওই লজ্জাভাবটা কি এখনো থাকবে?ওকে দেখার পর অপি কি বলবে?
-“কেমন আছো?অনেক রোগা হয়ে গেছো।”ইত্যাদি,ইত্যাদি............
সোহান আনমনা হয়ে বাইরের দিকে চেয়ে আছে।তার বোন লাল জামাটা দেখে অনেক খুশি হবে।তাকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমে দেবে।আর বলবে,“আমার মিষ্টি ভাইয়া।”কথাগুলো ভাবতে ভাবতে সোহানের খুব ঘুম পাচ্ছিলো।সিটের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমোবার চেষ্টা করতেছে।
হঠাৎ বাসে ঝাঁকুনি অনুভূত হলো। ড্রাইভার অনেক গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলো। সবাই ড্রাইভারকে বলছে,“আস্তে চালাও,আস্তে চালাও”। কিন্তু কে শুনে কার কথা?ড্রাইভারের কথা হলো তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌছতে হবে।বাসে অনেক চিৎকার চেঁচামেচি হচ্ছে। ড্রাইভার দূরন্ত গতিতে বাস চালাচ্ছে। হঠাৎ একটা দূরন্তগতির ট্রাক এসে সামনের দিকে বাসকে ধাক্কা দিলো।বাসখানা দুমড়ে মুচড়ে পড়লো।
আহত মানুষের আত্মচিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো।কারোর পা নেই,কারো হাত নেই, কারোর মগজ ছিটকে বেরিয়ে পড়েছে। দুমড়ে মুচড়ে পড়া বাসখানার একেবারে শেষে, সিটের নিচে পড়ে আছে সোহান।তার চোখজোড়া বন্ধ হয়ে আসছে। একবার মাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।আর ওই পাগলী বোনটাকে। কিন্তু সোহানের যে আর সময় নেই। আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।চোখজোড়া একবার মেলে দেখলো।ওইতো তার ব্যাগ পড়ে আছে।যার ভিতরে তার বোনের লালজামাটা রয়েছে।এবারও সোহান তার বোনের আবদার মেটাতে পারলো না।পারলো না মায়ের সাথে ঈদটা কাটাতে। ওর চোখজোড়া বন্ধ হয়ে এলো।নিঃশ্বাসটাও বন্ধ হলো।চিরনিদ্রায় শায়িত হলো, এক অভাগী বোনের মমতাময়ী ভাইয়া।
-হুম,বল।
-তুমি এখন কোথায়?
-আমি তো বাসে।
-আবার মিথ্যে কথা বলছো?
-মিথ্যা নয় সত্যি আমি বাসে।কাল সকালেই বাসায় আসছি।
-(খুশি হয়ে) আমার লাল জামাটা তো এনেছিস? এবার যদি না আনিস...তোর সাথে কথাই বলবো না।
-হ্যাঁ রে,পাগলী। তোর জন্য লাল জামা। মায়ের জন্য কাপড় কিনেছি।
-সত্যি?
-হুম,সত্যি।
-অপি আপুর জন্য কি আনলি?
-ওর জন্য কেন আনবো? ও আমার কে?
-ও মা,বউয়ের জন্য কিছু আনবা না?
-অনেক ফাজিল হয়েছিস,নাহ? এবার আসি বাড়ীতে তোর ফাজলামো ছাড়াবো।
-এবার তুমি বাড়ীতে আসো। ভাবীকেও আমাদের বাড়ী নিয়ে আসবো। হি হি হি
-ওকে, এখন রাখি।
-আচ্ছা,তাড়াতাড়ি এসো।
ফোনটা রেখে সোহান মনে মনে হাসছে।আর ভাবতেছে,“পাগলীটার, পাগলামো এখনও গেলো না।”
সোহানের বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব ওর কাঁধে এসে পড়ে।চাকরীর খুঁজে ব্যস্ত শহর,ঢাকায় পা রাখে।অনেক কষ্ট করে একটা প্রাইভেট অফিসে কেরানীর পদে চাকরী পায়।সংসার চালানো থেকে শুরু করে,তিতলীর(ওর বোন) পড়াশুনার খরচ ওকে বহন করতে হয়।আগের বার ব্যস্ততার কারণে ঈদে বাড়ী যাওয়া হয় নি।কিন্তু এবারের ঈদ ও গ্রামেই করবে।
তিতলী আগে থেকেই বলেছিলো যে, ওকে একটা লাল জামা কিনে দিতে হবে।তাই তো বোনের আবদার মেটাতে, অনেক খুঁজে বোনের লাল জামা নিয়ে যাচ্ছে।তিতলী ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ে।খুবই চঞ্চল আর অভিমানী মেয়ে।আগেরবার ওকে লাল জামা না দেয়ায় অনেকদিন সোহানের সাথে কথাই বলেনি।রাগ করে,গাল ফুলিয়ে বসেছিলো।সোহান ওকে খুবই স্নেহ করে। আর তিতলীও তার ভাইয়াকে অনেক অনেক ভালোবাসে।
অপির কথা মনে পড়ে সোহানের।ওদের পাশের বাড়ীর একটা মেয়ে।মেয়েটা খুবই ভদ্র টাইপের।সারাক্ষণ চোখে একটা চশমা থাকে।অনেক মায়াবী চেহারা।সোহানের পরিবারের সবাই ওকে ‘সোহানের বউ’ বলে ডাকে।যখন কেউ অপির সামনে সোহানের কথা বলে,ওর মুখ লজ্জা লাল হয়ে উঠে।সোহানও লাজুক টাইপের ছেলে।অপির সামনে আসলেই কোন কথা বলতে পারে না।দু’জন দুজনকে খুবই পছন্দ করে,কিন্তু বলতে পারে না।সোহান মনে মনে ভাবে,অপি এখন দেখতে কেমন হবে?আগের ওই লজ্জাভাবটা কি এখনো থাকবে?ওকে দেখার পর অপি কি বলবে?
-“কেমন আছো?অনেক রোগা হয়ে গেছো।”ইত্যাদি,ইত্যাদি............
সোহান আনমনা হয়ে বাইরের দিকে চেয়ে আছে।তার বোন লাল জামাটা দেখে অনেক খুশি হবে।তাকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমে দেবে।আর বলবে,“আমার মিষ্টি ভাইয়া।”কথাগুলো ভাবতে ভাবতে সোহানের খুব ঘুম পাচ্ছিলো।সিটের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমোবার চেষ্টা করতেছে।
হঠাৎ বাসে ঝাঁকুনি অনুভূত হলো। ড্রাইভার অনেক গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলো। সবাই ড্রাইভারকে বলছে,“আস্তে চালাও,আস্তে চালাও”। কিন্তু কে শুনে কার কথা?ড্রাইভারের কথা হলো তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌছতে হবে।বাসে অনেক চিৎকার চেঁচামেচি হচ্ছে। ড্রাইভার দূরন্ত গতিতে বাস চালাচ্ছে। হঠাৎ একটা দূরন্তগতির ট্রাক এসে সামনের দিকে বাসকে ধাক্কা দিলো।বাসখানা দুমড়ে মুচড়ে পড়লো।
আহত মানুষের আত্মচিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো।কারোর পা নেই,কারো হাত নেই, কারোর মগজ ছিটকে বেরিয়ে পড়েছে। দুমড়ে মুচড়ে পড়া বাসখানার একেবারে শেষে, সিটের নিচে পড়ে আছে সোহান।তার চোখজোড়া বন্ধ হয়ে আসছে। একবার মাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।আর ওই পাগলী বোনটাকে। কিন্তু সোহানের যে আর সময় নেই। আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।চোখজোড়া একবার মেলে দেখলো।ওইতো তার ব্যাগ পড়ে আছে।যার ভিতরে তার বোনের লালজামাটা রয়েছে।এবারও সোহান তার বোনের আবদার মেটাতে পারলো না।পারলো না মায়ের সাথে ঈদটা কাটাতে। ওর চোখজোড়া বন্ধ হয়ে এলো।নিঃশ্বাসটাও বন্ধ হলো।চিরনিদ্রায় শায়িত হলো, এক অভাগী বোনের মমতাময়ী ভাইয়া।

0 Comment "আমার গল্পসমগ্রঃ 'লালজামা'"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন