আমার গল্পসমগ্রঃ 'এক অন্যরকম পাওয়া'

-হ্যালো,তুই কই?
-এইতো ব্যাগ গুছাচ্ছি।
-তাড়াতাড়ি আয়।আমি কখন থেকে ট্রেন স্টেশনে বসে আছি।
-হুম,তাড়াতাড়িই আসছি।আর মিঠুনকে ফোন করেছিস তো?
-হ্যা,ফোন করেছি।কিন্তু বার বার Unreachable বলছে।তুই স্টেশনে আয়।পরে ওকে ফোন করবো।
-আচ্ছা,এখন রাখি।



একটু পরে ট্রেন স্টেশনে প্রিয়ার আগমণ ঘটলো।কিন্তু আজ ওকে কেমন যেন শুকনো শুকনো লাগছে।চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে।মিঠুনের জন্য অনেক কান্নাকাটি করেছে নিশ্চয়।

প্রথম প্রিয়ার সাথে আমার আলাপ হয় হোয়াটস অ্যাপে।আসলে কোথা থেকে ওর নাম্বারটা পেয়েছিলাম আমি নিজেই জানি না।আস্তে আস্তে কথা হলো।জানতাম পারলাম,ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী।কিন্তু তাতে কি? আমাদের কথাবার্তা সবই অন্যরকম ছিলো।আস্তে আস্তে দু’জন ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম।সারাদিন ও হোয়াটস অ্যাপে আসতো না।রাতে আসতো। অনেক রাত পর্যন্ত চ্যাট করতাম।

আমি ওকে ভালো বন্ধু হিসেবেই ভাবতাম,অন্যকিছু নয়।

একদিন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম যে,ওর কোন MF আছে কি না?প্রথমে MF মানে কি? এটাই সে বুঝলো না। আসলে আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলে GF/BF এর প্রচলন নেই।আমরা Gf কে FF বলি। অর্থাৎ Female Friend। আর BF কে MF বলি।অর্থাৎ Male Friend।

তো প্রিয়া বলল ওর না কি MF আছে।তার নাম মিঠুন।দু’জন দু’জনকে অনেক ভালোবাসে।মিঠুন প্রিয়ার দূরসম্পর্কের আত্মীয়।অর্থাৎ দু’জনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

কয়েকদিন আগে প্রিয়ার মা তাকে মিঠুনের সাথে মিশতে বারণ করে।এমনকি কলেজের এক বড় মাফিয়াকে বলে রাখে যে,মিঠুনকে যদি ওর সাথে মিশতে দেখে তো ওর হাত-পা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে।তাই প্রিয়া ভয়ে, মিঠুনের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়।দু’জন যখন দুঃখের সাগরে ভাসছিলো,তখন আমিই তাদের শান্তনা দিলাম।পরক্ষণে দুজনকে আবার এক করে দিলাম।

হঠাৎ করে প্রিয়ার মা তার বিয়ে ঠিক করে ফেলে।কিন্তু প্রিয়ার একটাই কথা যে সে মিঠুনকে ছাড়া বাঁচবে না।

তো কি আর করার? দুজনে সিদ্ধান্ত নিলো যে,ওরা দূরে কোথাও পালিয়ে যাবে।আমি ওদের মানা করলাম।কিন্তু ওরা কিছুতেই রাজি হলো না।শেষে আমিও রাজি হয়ে গেলাম।

স্টেশনের একটা বেঞ্চে আমি বসেছিলাম।প্রিয়া আমার সামনে আসলো।

-কি রে, মিঠুন কই?
-এখনো তো এলো না। দাঁড়া,আমি ফোন করছি।

আমি মিঠুনকে ফোন করলাম।

-হ্যালো,মিঠুন ভাই। তুমি কোথায়?
-শাকিল,তুমি এক কাজ করো।প্রিয়াকে নিয়ে ঢাকায় চলে যাও।আর সেখানে কোন এক হোস্টেল ভাড়া করে ২টা দিন থেকে যাও।এখন যদি আমি তোমাদের সাথে যাই।তাহলে সবাই আমাকে সন্দেহ করবে। আর তাছাড়া আমার পরিবারের উপর আক্রমণও করতে পারে।
-এইসব কি বলছেন আপনি?


পিছনে হাতের স্পর্শ অনুভব করলাম। “আমার কাছে ফোনটা দাও তো”...(প্রিয়া)

আমি ফোনটা প্রিয়ার হাতে দিলাম।প্রথমে প্রিয়া রাগারাগি করলেও পরে মিঠুন ভাইয়া কি যেন বলল। তারপর আচ্ছা,আচ্ছা বলে ফোন রেখে দিলো।
-কী বলল মিঠুন ভাই?
-তোকে যা বলছে তাই।এখন চল ট্রেন ছেড়ে দেবে।

আমি আর দাঁড়ালাম না।ওর পিছন পিছন চললাম।ট্রেনের জানালার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রিয়া।কি যেন মনে মনে ভাবতেছে? মনে হয় মায়ের কথা মনে পড়েছে।আমি আর কিছু বললাম না।আমার চোখ তন্দ্রাচ্ছন হয়ে পড়েছে।অতঃপর ঘুমিয়ে পড়লাম।

প্রিয়ার ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো।

-ঢাকায় চলে এসেছি।নামবে না?
-সে কি! এক ঘুমে ঢাকায় চলে এলাম।
একটা মৃদ্যু হাসি দিয়ে আমায় বলল,“তোর ঘুমটাকে তো আর ঘুম বলা যায় না।মরার মতো পড়ে থাকা বলা বাহুল্য।”


আমি আর কথা বাড়ালাম না।নিজের ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে ট্রেনের বাইরে বেরিয়ে পড়লাম।

দু’জনে অনেকক্ষণ ধরে হাটলাম।প্রিয়া বলে উঠলো,
-এতক্ষণ ধরে শুধু হেঁটেই চলছি।কিছু খাবো না?
-সামনে একটা রেস্টুরেন্ট দেখা যাচ্ছে ওখানে খেয়ে নেবো।

খাওয়া শেষে হোস্টেলের খুঁজে বের হলাম।


অনেক কষ্টে একখানা হোস্টেলের সন্ধান পেলাম।কিন্তু সমস্যা একটাই ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেয়া হয় না।কি আর করার? স্বামী-স্ত্রী সেজে ঘর ভাড়া করলাম।পাছে কেউ বুঝে ফেলে সেজন্য ওর নাম নৌশিন লিখতে বললাম।

ঘরখানা একদম পরিপাটি।দু’জনে ফ্রেশ হয়ে লম্বা একটা ঘুম দিলাম।উল্লেখ্য,আমি বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলাম।বিকালে একটা রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করে বেড়াতে গেলাম।সন্ধ্যায় রাতের খাবার সঙ্গে করে হোস্টেলে ফিরে আসলাম।

-কি রে, মিঠুনকে একটা ফোন কর।আমরা যে পৌছে গেছি সে কথা বলতে হবে না?(প্রিয়া)
-এই নে ফোন।


মিঠুনের নাম্বারটা Save করা ছিলো।প্রিয়া ওকে ফোন করার চেষ্টা করলো।কিন্তু ওই প্রান্ত থেকে একটা নারী কন্ঠ বলে উঠলো,”The number, you have dialed is currently Unreachable.Please,Try again Later.”


অনেকবার কল করার পরও ফোন বন্ধ দেখালো।রাতের খাবার খেয়ে আমি চলে গেলাম বারান্দায় ঘুমানোর জন্য।আর প্রিয়া বিছানায় শুয়ে রয়েছে।ওর দিকে একটু খানি তাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।


আজ তিনদিন হয়ে গেলো।মিঠুনের ফোন সুইচড অফ।অনেকবার কল করলাম কিন্তু বন্ধ দেখাচ্ছে। অনেক মেসেজও পাঠালাম।কিন্তু কোন রিপ্লে আসলো না।এক অজানা ভীতি দেখা দিলো আমার মনে। আর প্রিয়ার মনের অবস্থা একেবারে ভালো নেই। একই তো মায়ের কথা/পরিবারের কথা মনে পড়ছে,তার উপর মিথনের চিন্তায় দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছে।


আমি কোনদিন সিগারেট খাই নি।কিন্তু অনেকের মুখে শুনেছি সিগারেট খেলে না কি টেনশন দূর হয়!! তাই পাশের এক মুদি দোকান থেকে ১ শলাকা সিগারেট কিনে আনলাম।পাছে প্রিয়া দেখে ফেলে সেই ভয়ে হোস্টেলের ছাঁদে গেলাম।সিগারেটটা সবেমাত্র ধরিয়েছি।হঠাৎ আমার মুঠোফোন বেজে উঠলো।স্ক্রিনে মিঠুন ভাইয়ের নাম দেখে হাতের সিগারেট ফেলে দিলাম। ৯০% টেনশন যেন মুক্ত হয়ে গেলো।
কাঁপা হাতে ফোনটা ধরলাম।

-হ্যালো,মিঠুন ভাইয়া।
-হুম,বল কি হইছে?
-কি হইছে মানে?আপনি কোথায়?
-আমি তো বাড়ীতে।
-বাড়ীতে মানে?আপনি কি ঢাকায় আসবেন না?
-কিসের জন্য আসবো?
-এসব আপনি কি বলছেন? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!!
-৩দিন ধরে হোস্টেলে নষ্টামি করে বেড়াচ্ছিস তোরা।আর এখন বলছিস কিছুই জানস না। শোন তোর মতো নষ্ট ছেলেদের আমার ভালো করেই জানা আছে।
-কিসব উল্টা পাল্টা বলছেন? আমি ওর শুধু বন্ধু। আর ওকে আমি স্পর্শ পর্যন্ত করিনি।আমি কোন দুষ্ট লোক নই।
-হুম,৩দিন ধরে হোস্টেলের এক রুমে ২জন বিপরীত লিঙ্গের মানুষ কি করে? তা আমার ভালো করে জানা আছে।
-তার মানে আপনি প্রিয়াকেও নষ্টা বলছেন?
-আরে ওটাতো একটা খাঁটি নষ্টা মেয়ে। যার তার সাথে শুয়ে বেড়ায়।৩ দিন ধরে ওর সাথে শুয়ে এসে এখন আমার কাছে গছাতে এসেছো।যা, ওকে অন্য কোথাও বিক্রি করে দে।

টুট...... টুট...টু


ফোনটা কেটে দিলো।আমার অনেক রাগ হচ্ছিলো।এটার নাম কি ভালোবাসা?রাগে আমার দু’চোখ লাল হয়ে আসছিলো।রুমে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলাম।


কিন্তু এ কি!!!আমার পিছনে অভিমানি একটা মুখ দেখতে পেলাম। সবকথা শুনে ফেলেছে প্রিয়া।আমাকে ছাঁদে রেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার অবস্থায় রুমে দিকে ছুটে গেলো।আমি পিছন পিছন প্রিয়া...প্রিয়া বলে দৌড়াতে লাগলাম।আর মনে মনে ভাবলাম যেকোনো একটা অঘটন ঘটাতে পারে এই মেয়েটা।তাড়াতাড়ি রুমে গেলাম। কিন্তু না,কিছুই হয় নি।মুখটা বালিশ দিয়ে চেপে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো প্রিয়া।


আমি শুধু নির্বাক হয়ে বসে রয়েছি। কিছুই করতে পারছি না।আস্তে আস্তে কান্না কমে এলো।আমি ওর কাছে গেলাম। ওকে অনেক করে বুঝলাম।

ও নিস্তব্দ হয়ে বসে রইলো।কোন কিছুই বলল না।সেদিন আর কারো খাওয়া হলো না।সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত এলো।তবু প্রিয়া বিছানা থেকে উঠছে না। অপলক দৃষ্টিতে দূর দিগন্তের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছে।আমি কিছু বললাম না।


বারান্দায় গেলাম।সারারাত জাগার জন্য প্রস্তুত হলাম।কারণ আমি জানি, যেকোন সময় একটা অঘটন ঘটে যেতে পারে।বারান্দায় বসে পড়লাম।একটু পরে দেখলাম প্রিয়া ঘুমিয়ে গেছে।একটা কোলবালিশ জড়িয়ে অন্যদিকে কাঁত হয়ে শুয়ে রয়েছে।আমি তবু ঘুমালাম না।


সারারাত জেগে পাহারা দেবার পর।ভোরের দিকে আমি আর পারলাম না।গভীর নিদ্রায় তলিয়ে গেলাম।


দুপুরের দিকে কানে কি যেন একটা ব্যাথা অনুভব করলাম।
হ্যাঁ, কে যেন আমার কান ধরে টানছে!!চোখজোড়া খুললাম।প্রিয়া আমার কান ধরে ঘুম থেকে তুলছে।আজ প্রিয়াকে অন্যরকম দেখাচ্ছে। যেন পিছনের সবকিছু ভূলে গেছে।

-“এতো সময় কি কেউ ঘুমায়?কতক্ষণ ধরে তোকে ডাকছি।সাড়াই দিচ্ছিস না।”



আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি ওর দিকে।ও এরকম কেন করছে? পাগল টাগল হয়ে গেলো না কি?নাহ,পাগল হলে তো এরকম সুস্থ মানুষের মতো কথা বলতো না। এরকম হাজারো কথা আমার মনে উকি দিচ্ছিলো।

-কি রে কি দেখছিস?
-কিছু না
-কিছু না মানে? যা গোসল করে আয়।একটা সারপ্রাইজ দেবো।
-কিসের সারপ্রাইজ?
-বলা যাবে না।


আমি আর কথা বাড়ালাম না।গোসলটা সেরে রুমে ঢুকলাম।প্রিয়া নিজের সাজসজ্জা নিয়ে ব্যস্ত।একটা নীল শাড়ি পড়েছে।
কানের রিংটা লাগাতে লাগাতে বলল,
-ঐ জায়গায় তোর শার্ট আর প্যান্ট রাখা আছে । পড়ে নে।


আমি কিছুই বুঝলাম না।ও এরকম বিহেভ কেন করছে? আমি বাধ্য ছেলের মতো শার্ট প্যান্ট পড়লাম।


রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম।আমি আর পারলাম না।ওকে বললাম,
-তোর কি হয়েছে বলতো?এরকম বিহেভ করতেছিস কেন?
-আমি আবার কি রকম বিহেভ করলাম?
-আমরা এখন কোথায় যাবো?
-বললাম না,সারপ্রাইজ আছে।
-কিসের সারপ্রাইজ?
-সারপ্রাইজের কথা বলে ফেললে সেটা কি আর সারপ্রাইজ থাকে,বুদ্ধু?


আমি আর কথা বাড়ালাম না।ডানে একটা গলি পড়লো।গলিতে ঢুকলাম।
হঠাৎ প্রিয়া বলে উঠলো, “তুই এখানে দাঁড়া।আমি উনার (একটি লোককে ইশারা করে) সাথে একটা কথা বলে আসছি।”


লোকটার সাথে কি যেন বলে আমায় নিয়ে অন্য রাস্তার দিকে গেলো।হঠাৎ এক জায়গায় আমাকে থামতে বলল। আমি থামলাম।


-“এবার চল।জায়গা মতো চলে এসেছি।” আমি কিছুই বুঝলাম না।বাধ্য হয়ে ওর সঙ্গে সঙ্গে চললাম।


হঠাৎ একটা সাইনবোর্ডের দিকে চোখ পড়লো।আমি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছি না।ওটাতে লেখা ছিলো “কাজি অফিস”।

আমি হাঁটা বন্ধ করে দিলাম।
-এসব কি করছিস তুই?আমিতো কিছুই বুঝছি না।কাজী অফিসে কেন এসেছিস?
-বিয়ে করবো, তাই।
-কাকে?
-কাকে আবার? তোকে।
-তোর মাথা কি ঠিক আছে?
-হ্যাঁ,I am perfectly alright।
-আমি তোকে বিয়ে করতে পারবো না।
-কেন?
-দেখ,তুই অন্যজনকে ভালোবাসিস।আর আমি তোকে শুধু বন্ধু বলেই জানি।তাছাড়া তুই অন্য ধর্মের।
-(ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো)আমি জানতাম।তুই এরকম করবি।আমি অন্য ধর্মের এটাই তো তোর প্রবলেম?
-আরে না।
-(রাগ করে,আমার কলার চেপে ধরলো) তাহলে চল। আমি বাধ্য হয়ে চললাম।


বিবাহ সম্পন্ন হলো।আমি নিজেকে এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না।আমি মুখ গোমরা করে বসে আছি।

-কি রে, বিয়ের দিন এমন মুখ গোমরা করে বসে আছিস কেন?
-তুই কাজটা ঠিক করিসনি!!
-আমি ঠিকই করেছি।
-কি ঠিক করেছিস?
-দেখ, লাইফটা আমার।আর আমার লাইফ কিভাবে চলবে? এটা আমার উপর ডিপেন্ড করে।আমি কি ডিসিশন নেবো এটা আমার ব্যাপার।আর ঐ ফ্রডের কথা কি বলব?যাকে মন উজাড় করে ভালোবাসতাম।সে কি না আমায় নষ্টা বলে।মনে হয়েছিলো আমার এই পৃথিবীতে কেউ নেই।মরে যেতে চেয়েছিলাম।কিন্তু পরে ভাবলাম,আমি মরবো কেন?আমি আবার নতুন করে বাঁচবো।তাই নতুন করে বাঁচার জন্য নিজের ধর্মও পাল্টে ফেললাম। যা হোক, বাড়ীতে তো আর ফিরে যেতে পারবো না।তাই ঠিক করলাম, একজন বিশ্বস্ত লোককে জীবন সাথী করবো। যে কি না,আমার অবমূল্যায়ন করবে না।আর সেই ব্যক্তি হলো তুই।


আমি নিরবে ওর কথাগুলো শুনছিলাম।হঠাৎ ও আমার হাত চেপে বলে উঠলো, “পারবি না, আমায় জীবন সাথী করে নিতে?পারবি না, আমায় সারাজীবন আগলে রাখতে?”


মনের অজান্তেই বলে ফেললাম, “হ্যাঁ,আমি পারবো”।

দু’ফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পড়তে দেখলাম ওর হাসি মাখা গালে।এ চোখের জল দুঃখের নয়,এটা চিরসুখের।চিরদিনের জন্য আপন করে নিলাম ওকে।এ আমার এক অন্য রকম পাওয়া!!

0 Comment "আমার গল্পসমগ্রঃ 'এক অন্যরকম পাওয়া' "

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন